সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হাশরের ময়দানে যে ৫ টি আমলের হিসাব নেওয়া হবে।


​হাশরের ময়দানে প্রধান যে ৫টি প্রশ্নের হিসাব দেওয়া লাগবে 

​রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কোনো আদম সন্তান তার কদম এক চুলও নাড়াতে পারবে না (তিরমিজি)। সেই ৫টি বিষয় হলো:

​১. পুরো জীবন কোন পথে ব্যয় করেছে: মানুষ তার শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়টি কীভাবে অতিবাহিত করেছে, তার হিসাব দিতে হবে।

২. যৌবনকাল কীভাবে কাটিয়েছে: জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তির সময়টি ইবাদতে নাকি পাপে ব্যয় হয়েছে, তার আলাদা হিসাব নেওয়া হবে।

৩. সম্পদ কোন পথে উপার্জন করেছে: আয় করার উৎসটি হালাল ছিল নাকি হারাম, তা স্পষ্টভাবে বলতে হবে।

৪. সম্পদ কোন পথে ব্যয় করেছে: উপার্জিত অর্থ কি আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় হয়েছে, নাকি অপচয় ও অনর্থক কাজে খরচ করা হয়েছে।

৫. অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে: দ্বীন ও দুনিয়ার যেটুকু জ্ঞান সে অর্জন করেছিল, তা কি শুধু জানার জন্য ছিল নাকি সে অনুযায়ী সে কাজও করেছিল।

​নামাজের হিসাব

​উল্লেখ্য যে, বান্দার হক ও জীবনযাত্রার হিসাবের পাশাপাশি ইবাদতের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নবী করিম (সা.) বলেছেন:

​"কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নেওয়া হবে। যদি নামায সঠিক হয়, তবে সে সফল ও কামিয়াব হবে। আর যদি নামায নষ্ট হয়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" (সুনানে নাসায়ি)


​হাশরের ময়দান হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এক সময়, যেখানে আমলই হবে মানুষের একমাত্র সম্বল। তাই এই পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে জীবন পরিচালনা করা মুমিনের কর্তব্য।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখতে হলে এই পাঁচটি বিষয় থেকে দূরে থাকা জরুরি। এই আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই একজন মুমিন প্রকৃত প্রশান্তি অর্জন করতে পারেন।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রাহিমাহুল্লাহ) তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মাদারিজুস সালেকীন’-এ কলব বা অন্তর বিনষ্টকারী ৫টি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন।  ১. অধিক মেলামেশা বা সামাজিকতা (Excessive Socializing) মানুষের সাথে অতিরিক্ত মেলামেশা অন্তরকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। যখন কেউ সারাক্ষণ মানুষের ভিড়ে থাকে, তখন তার অন্তরে আল্লাহর স্মরণ কমে যায় এবং অনর্থক কথা, গীবত বা পরচর্চায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এটি মানুষকে রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদতের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। ২. অধিক ঘুম (Excessive Sleeping) প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম অন্তরকে অলস এবং মৃতপ্রায় করে ফেলে। এটি মানুষকে ইবাদতে বিমুখ করে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট করে। অতিরিক্ত ঘুমালে মানুষের মেধা ও চিন্তাশক্তি হ্রাস পায় এবং আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের স্পৃহা কমে যায়। ৩. অধিক ভোজন (Excessive Eating) অতিরিক্ত আহার করা অন্তরের কঠোরতার অন্যতম কারণ। পেট ভরে খাওয়ার ফলে শরীরে অলসতা আসে, যা ইবাদত-বন্দেগিতে বাধা সৃষ্টি করে। নফস বা প্রবৃত্তি তখন শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সুন্নাহ অনুযায়ী পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং এক-তৃতীয়াংশ বাতাস...

"যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন"