অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখতে হলে এই পাঁচটি বিষয় থেকে দূরে থাকা জরুরি। এই আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই একজন মুমিন প্রকৃত প্রশান্তি অর্জন করতে পারেন।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রাহিমাহুল্লাহ) তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মাদারিজুস সালেকীন’-এ কলব বা অন্তর বিনষ্টকারী ৫টি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন।
১. অধিক মেলামেশা বা সামাজিকতা (Excessive Socializing)
মানুষের সাথে অতিরিক্ত মেলামেশা অন্তরকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। যখন কেউ সারাক্ষণ মানুষের ভিড়ে থাকে, তখন তার অন্তরে আল্লাহর স্মরণ কমে যায় এবং অনর্থক কথা, গীবত বা পরচর্চায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এটি মানুষকে রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদতের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
২. অধিক ঘুম (Excessive Sleeping)
প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম অন্তরকে অলস এবং মৃতপ্রায় করে ফেলে। এটি মানুষকে ইবাদতে বিমুখ করে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট করে। অতিরিক্ত ঘুমালে মানুষের মেধা ও চিন্তাশক্তি হ্রাস পায় এবং আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের স্পৃহা কমে যায়।
৩. অধিক ভোজন (Excessive Eating)
অতিরিক্ত আহার করা অন্তরের কঠোরতার অন্যতম কারণ। পেট ভরে খাওয়ার ফলে শরীরে অলসতা আসে, যা ইবাদত-বন্দেগিতে বাধা সৃষ্টি করে। নফস বা প্রবৃত্তি তখন শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সুন্নাহ অনুযায়ী পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং এক-তৃতীয়াংশ বাতাসের জন্য রাখা উত্তম।
৪. অলীক আশা-আকাঙ্ক্ষা (Excessive Hopes/Daydreaming)
দুনিয়া নিয়ে দীর্ঘ এবং অবাস্তব আশা-আকাঙ্ক্ষা মানুষের অন্তরকে আখিরাত থেকে বিমুখ করে রাখে। যখন কেউ কেবল দুনিয়ার ভোগবিলাস আর ভবিষ্যতের লম্বা পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সে মৃত্যুর কথা ভুলে যায়। এই 'আশা' মানুষকে আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগী হতে দেয় না।
৫. আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর সাথে অন্তরকে সম্পৃক্ত করা (Attaching the Heart to Others)
এটি সবচেয়ে ভয়াবহ কারণ। যখন কোনো ব্যক্তি তার ভালোবাসা, ভয়, ভরসা এবং আশা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কোনো সৃষ্টির (মানুষ, সম্পদ বা ক্ষমতা) ওপর ন্যস্ত করে, তখন তার অন্তর কলুষিত হয়ে যায়। প্রকৃত শান্তি কেবল আল্লাহর স্মরণের মধ্যেই নিহিত, তাই অন্য কিছুর সাথে অন্তরকে জড়ালে তা অশান্তি ও ধ্বংসই বয়ে আনে।
মন্তব্যসমূহ